ডঃ আবুল দিওয়ানা ও আফ্রিকার নরখাদক।


ডঃ আবুল অনেক দিন বাদে তাঁর দেশের বাড়িতে ফিরে বেশ আরামে ঘুমাচ্ছিলেন। মাঝরাতে হেলিকপ্টারের শব্দে তাঁর ঘুমের বারোটা বেজে গেল। জেগে উঠেই তিনি বুঝে গেলেন যে আবার কোনো বিরাট সমস্যার সমাধান করার জন্যে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হবে। তাড়াতাড়ি তিনি টয়লেটে ঢুকে দরজা এঁটে দিলেন।

বেরিয়ে এসেই দেখলেন তাঁর সামনে গোটা দশেক অফিসার আর তাদের বডিগার্ড দাঁড়িয়ে। তারা কিছু বলার আগেই আবুল বললেন, চলুন, যেতে যেতে সব শুনব
হেলিকপ্টারে উঠেই তিনি প্রশ্ন করলেন, এবারে সমস্যা কি?
উত্তর যেটা পেলেন তাতে তাঁর মাথা গরম হয়ে গেল। অফিসার বলল সব সেখানে গিয়ে জানতে পারবেন। আমাদের কিছু বলার অনুমতি দেওয়া হয়নি।।
আবুল এবারে উলটো গেয়ে দিলেন। দেখুন, আপনি আমাকে যত তাড়াতাড়ি সব জানাবেন ততো আমি চিন্তা করার সময় পাবো। বাকিটা আপনার মরজি।
এইবারে কাজ হল। অফিসার সমস্যার কথা প্রকাশ করলেন।

আফ্রিকার গভীর জঙ্গলে জনা দশেক বিজ্ঞানী কোনো প্রাচীন গাছ খুঁজতে গেছিলেন। তাঁরা সেখানে এক বিরাট ভান্ডার আবিষ্কার করেছেন। এখন সমস্যা হল যে তাঁরা ফিরে আসার পথে একদল জংলী নরখাদকের হাতে বন্দী হয়ে পড়েছেন। আর মাত্র দু-ঘন্টা বাদেই তাঁদের জংলী দেবতার কাছে বলি দিয়ে কেটেকুটে খাওয়া হবে। মাত্র একজন কোনোক্রমে লুকিয়ে বেঁচে গেছেন বলেই এই খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু বাকিরা সবাই যন্ত্রপাতি আর কাগজপত্র সমেত জংলী নরখাদকদের ডেরায় আটকা আছেন। তাঁরা মারা গেলে আর সেই বিরল গাছের সন্ধান পাওয়া যাবে না।
সেখানে গিয়ে লড়াই করার মতন সময় হাতে নেই। আর লড়াই করলেই যে দলটাকে বাঁচানো যাবে তেমন সম্ভাবনা খুব কম। এখন ডঃ আবুলের কাজ হল যে কোনো ভাবে সেই দলটাকে বাঁচানো।

আবুল প্রশ্ন করলেন, ঐ জংলীদের ভাষা বোঝার মতন কেউ আছে?
না স্যার। ঐ দলের মধ্যে কেউ নেই।
আপনাদের কাছে?
আমাদের কাছে পেতে সমস্যা হবে না স্যার। তেমন লোক যোগাড় হয়ে যাবে।
তবে আপনি যোগাড় করুন। নেমেই যেন তাকে পাওয়া যায়। ব্যাপারটা আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলা যাবে।
অফিসার অমনি রেডিও নিয়ে ব্যস্ত হলেন।

ডঃ আবুলকে নিয়ে হেলিকপ্টার মাটিতে নামা মাত্রই সকলে অফিসে ছুটলেন। ভিতরে ঢুকেই আবুল বললেন, দোভাষী হাজির আছে?
বস বললেন, তাকে নিয়ে আসার সময় ছিল না। সে আফ্রিকাতে বসেই ভিডিও চ্যাটে কাজ করবে।
আবুল চটে গিয়ে বললেন, তবে আমিও তো সেইভাবেই কাজ করতে পারতাম। তুলে আনার দরকার কি ছিল? যাক, এবারে শিগ্রি আমাকে সেই পালানো বিজ্ঞানীর সাথে লিঙ্ক করুন। আর সেই দোভাষীর সাথেও। সে আমাদের কথা শুনে প্ল্যানটা বুঝে নিক। তাড়াতাড়ি করুন। সময় মাত্র ৩০ মিনিট।

যোগাযোগ হওয়া মাত্রই আবুল প্রথমে পালানো বিজ্ঞানীর সাথে কথা শুরু করলেন।
আবুল- মশাই, আপনি কিসের বিজ্ঞানী?
আমি কোনো বিজ্ঞানী না স্যার। আমি রেডিও অপারেটর।
ভালো কথা। তা আপনার কাছে কোনো ভিডিও ডিভাইস আছে কি?
আছে স্যার। একটা আইপড আছে।
তাতে রোমান্টিক ভিডিও আছে?
ইয়ে, মানে আছে স্যার। গোটাদুই আছে। তবে আমাদের ব্যাগে ডিভিডি ছিল, সেখানে অনেক আছে স্যার। সেসব জংলীদের কাছে জমা আছে।
সেইটাকে প্লে করার জন্য রেডি রাখুন। আর আপনাদের ডিভিডি কালেকশানে কি কোনো ফাইটিং মুভি আছে? ব্রুস-লি, টার্মিনেটর এই টাইপের? কিম্বা সুপারহিরো মুভি?
ব্লেড সিরিজ আছে স্যার। আর স্পাইডারম্যান আছে দেখেছি। এছাড়া আরো অনেক আছে, এখন নাম মনে পড়ছে না। তবে ব্যাপক মারামারি আছে।
বহুত খুব। আবুল এবার বস এর দিকে তাকিয়ে দেখলেন তিনি এইসব ফালতু কথা শুনে রেগে লাল হয়ে গেছেন। আবুলকে তাকাতে দেখেই বললেন, আর মাত্র কুড়ি মিনিট সময় আছে ডঃ! আপনি এখন সিনেমা নিয়ে আলোচনা ছেড়ে কিছু করবেন কি?

(----------চলিবে----------)

0 comments:

Post a Comment